আইসিটিতে ভালো করে ৯বোর্ডের মধ্যে এগিয়ে সিলেট

১৫ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:০৫  

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০০০ সালে পরীক্ষা ছাড়াই এবং পরের বছর কম বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে জেএসসি এবং এসএসসির ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেছিল সরকার। ওই সময়ে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতির একটি নীতিমালা করা হয়েছিল। এবার আন্দোলনের কারণে সব পরীক্ষা না হওয়া সেই আদলে সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। গতবারের তুলনায় পাসের হারে খুব বেশি হেরফের না হলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লম্ফনের পেছনেও সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের ভূমিকা রেখেছে। এই পদ্ধতির ফলাফলে অন্তরালে প্রভাব ফেলেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তাথা আইসিটি বিষয়।

এই সাবজেক্টে ভালো ফলের কারণে নয় বোর্ডের মধ্যে সামগ্রিক ভাবে পাসের হারে এগিয়ে গেছে সিলেট। তবে এতে খারাপ ফলের ধাক্কা লেগেছে যশোর ও ময়মনসিংহে। যশোর বোর্ডে আইসিটির একটিতে ৮৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে আইসিটিতে ৭৩ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

আইসিটিতে ভালো করায় সিলেট বোর্ডে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৩ হাজার ১৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ পাস করেছে। ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ নিয়ে পাসের হারের দিক থেকে তলানীতে নেমে গেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পরীক্ষা বসেছিল ৭৭ হাজার ৬২১ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও চট্টগ্রাম বোর্ডে আইসিটির একপত্রে ৮৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সব সাধারণ শিক্ষাবোর্ডকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছে সিলেট বোর্ড। সারাদেশে সামগ্রিক পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশের বিপরীতে এই বোর্ডের পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। কম পরীক্ষায় বসার কারণে সিলেট বোর্ডের শিক্ষার্থীরা সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের ‘সুবিধা’ পেয়েছে। এক্ষত্রে অন্য বোর্ড ছয়টা পত্রের সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের সুবিধা পেলেও ১০টি বিষয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের বেনিফিট পেয়েছে সিলেট। আইসিটিতে এই বোর্ডের ৮৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সিলেটের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে আইসিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওই শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ চন্দ্র পাল। মানবিকের শিক্ষার্থীরা এবার আইসিটিতে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, সিলেটে মানবিকের প্রায় ৮৬ শতাংশ পাস করেছে এবার। মানবিকের ক্ষেত্রে আইসিটি পরীক্ষায় পাস করে ৯৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। সে কারণে সামগ্রিকভাবে পাসের হার বেড়েছে।

তবে আইসিটির প্রশ্ন ‘কঠিন’ হওয়ার শিক্ষার্থীরা ‘শোচনীয়’ অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করেন পরীক্ষা ময়মনসিংহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শামসুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, বিজ্ঞান ও কমার্সের জন্য ঠিক হলেও মানবিকের জন্য এই বোর্ডের আইসিটি প্রশ্নটি ঠিক ছিল না। তাছাড়া  গ্রামাঞ্চলে ব্যবহারিক ক্লাস করানোর মত কোনো ব্যবস্থা না থাকায়ও এই পরীক্ষায় অনেকেই খারাপ করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, “উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হারটা মূলত নির্ভর করে বিশেষ করে ইংরেজি এবং আইসিটির উপরে। যেহেতু ইংরেজি এবং আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে (সিলেটে আইসিটি পরীক্ষা হলেও ইংরেজি হয়নি), সে কারণে পাসের হার স্বাভাবিক সময়ের মত সকল বিষয়ে পরীক্ষা দিলে যেরকমটি হত, তেমনটি আছে।”

নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে আট নম্বরে থাকা যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২২ হাজার ৫১১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ দশমিক ২৯ ভাগ পাস করেছে।